প্রকাশ্যে পীরকে কুপিয়ে হত্যা: ইউনূস-তারেক একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫) নামে এক পীরকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ‘শামীম বাবার দরবার শরিফে’ এই নৃশংষ হামলার ঘটনা ঘটে।

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৮ মাসে দেশে ১০০টি বেশি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় নুরুল হক মোল্লা ওরফে নুরাল পাগলার মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তার কবর থেকে মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় একজন নিহত এবং ১০০ জনের বেশি আহত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা এবং উগ্রবাদ তোষণের প্রশ্নে ড. ইউনূস প্রশাসন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জোট এখন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা ২টার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত শামীম বাবার দরবার শরিফে হঠাৎ হামলা চালায় একদল লোক। তারা দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পীর শামীম ও তার তিন সহযোগীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শামীমকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানান, পীর শামীমের একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও উত্তেজিত জনতার তুলনায় সংখ্যায় কম হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়।

‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন। কিন্তু এর বিপরীতে বিচারের হার হতাশাজনক।

পরিসংখ্যান বলছে, ৯৭টি হামলার বিপরীতে মামলা হয়েছে মাত্র ১১টি। ১০টি মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। কুমিল্লা, নরসিংদী ও ঢাকায় সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে। বুলডোজার ব্যবহার করে অন্তত ৬টি মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকার মুখে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বললেও মাঠ পর্যায়ে সুফি সাধক ও সংখ্যালঘু সংস্কৃতি রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাও সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, ১৮ মাসে বাউলদের হেনস্তা ও মাজার ভাঙার প্রতিটি ঘটনা ঘটেছে প্রশাসনের নাকের ডগায়।

হামলার শিকার মাজারগুলোর অধিকাংশ ভক্তই এখন আতঙ্কিত। ৪৪টি মাজার এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মাকাম সেন্টারের সমন্বয়ক মো. আবু সাঈদ জানান, বিচারহীনতার কারণে ভক্তরা এখন মামলা করতেও ভয় পাচ্ছেন।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পর এখনকার বিএনপির আমলেও প্রশাসনিক স্থবিরতা ও কৌশলী মৌনতা—এই দুই মিলে দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কুষ্টিয়ার এই সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড তারই সর্বশেষ প্রমাণ।

বর্তমানে এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হলেও স্থানীয় সুফি সমাজ ও সুধী মহলের প্রশ্ন—আর কত রক্ত ঝরলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫) নামে এক পীরকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ‘শামীম বাবার দরবার শরিফে’ এই নৃশংষ হামলার ঘটনা ঘটে।

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৮ মাসে দেশে ১০০টি বেশি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় নুরুল হক মোল্লা ওরফে নুরাল পাগলার মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তার কবর থেকে মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় একজন নিহত এবং ১০০ জনের বেশি আহত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা এবং উগ্রবাদ তোষণের প্রশ্নে ড. ইউনূস প্রশাসন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জোট এখন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা ২টার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত শামীম বাবার দরবার শরিফে হঠাৎ হামলা চালায় একদল লোক। তারা দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পীর শামীম ও তার তিন সহযোগীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শামীমকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানান, পীর শামীমের একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও উত্তেজিত জনতার তুলনায় সংখ্যায় কম হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়।

‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন। কিন্তু এর বিপরীতে বিচারের হার হতাশাজনক।

পরিসংখ্যান বলছে, ৯৭টি হামলার বিপরীতে মামলা হয়েছে মাত্র ১১টি। ১০টি মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। কুমিল্লা, নরসিংদী ও ঢাকায় সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে। বুলডোজার ব্যবহার করে অন্তত ৬টি মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকার মুখে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বললেও মাঠ পর্যায়ে সুফি সাধক ও সংখ্যালঘু সংস্কৃতি রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাও সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, ১৮ মাসে বাউলদের হেনস্তা ও মাজার ভাঙার প্রতিটি ঘটনা ঘটেছে প্রশাসনের নাকের ডগায়।

হামলার শিকার মাজারগুলোর অধিকাংশ ভক্তই এখন আতঙ্কিত। ৪৪টি মাজার এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মাকাম সেন্টারের সমন্বয়ক মো. আবু সাঈদ জানান, বিচারহীনতার কারণে ভক্তরা এখন মামলা করতেও ভয় পাচ্ছেন।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পর এখনকার বিএনপির আমলেও প্রশাসনিক স্থবিরতা ও কৌশলী মৌনতা—এই দুই মিলে দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কুষ্টিয়ার এই সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড তারই সর্বশেষ প্রমাণ।

বর্তমানে এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হলেও স্থানীয় সুফি সমাজ ও সুধী মহলের প্রশ্ন—আর কত রক্ত ঝরলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?

আরো পড়ুন

LATEST