বিএনপি : ফিরে এলো সেই পুরনো অভিশাপ

বিশ্ববাজারে খাবারের দাম বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও জানাচ্ছে, এপ্রিলে তাদের ফুড প্রাইস ইনডেক্স তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠেছে। সূচকের মান ১৩০ দশমিক ৭ পয়েন্ট, মার্চের চেয়ে বেড়েছে প্রায় পৌনে দুই শতাংশ। ভোজ্যতেল, শস্য, মাংস সব কিছুর দামই ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে যে দেশটি সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে পারে, সেটা হলো বাংলাদেশ। কারণ বাংলাদেশ একটি বড় খাদ্য আমদানিকারী দেশ এবং এই মুহূর্তে দেশটির মাথায় যারা বসে আছে, তারা এই সংকট সামলানোর যোগ্যতা রাখে বলে এতটুকু ভরসা হয় না।

গত ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যে নির্বাচন হলো, সেটাকে নির্বাচন বলতে হলে এই শব্দটার অর্থ নতুন করে শিখতে হবে। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই ভোটে ছিল না। সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। যা হয়েছে সেটা ছিল একটা সাজানো, পরিকল্পিত ক্ষমতা দখলের আনুষ্ঠানিকতা। আর সেই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গদিতে বসেছে বিএনপি এবং তার তথাকথিত মন্ত্রিসভা।

বিএনপি দলটির জন্ম নিয়ে কথা বলতে গেলে শুরু করতে হয় সেনানিবাস থেকে। জিয়াউর রহমান একটি রাজনৈতিক দল বানিয়েছিলেন ব্যারাকের ছায়ায়, সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়। সেই দলের ডিএনএতেই গোড়া থেকে গেঁথে ছিল দুর্নীতি আর পেশিশক্তির রাজনীতি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপির শাসনকাল দেখেছে বাংলাদেশ। সেই পাঁচ বছরে দেশজুড়ে কী হয়েছিল সেটা ভুলে যাওয়ার নয়। চাঁদাবাজি, দখলদারি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, হাওয়া ভবনের ছায়া সরকার, দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক, এই সব কিছু সেই আমলেরই উপহার।

এখন সেই দলটাই আবার ক্ষমতায়। এবং এমন একটা সময়ে ক্ষমতায় যখন আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যের দাম লাফাচ্ছে। ভোজ্যতেলের দাম এপ্রিলে এক মাসেই বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর আর দেখা যায়নি। পাম তেল, সয়াবিন, সূর্যমুখী, সরিষার তেল সবই চড়া। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সংকট কাটেনি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উৎপাদন কমার আশঙ্কা আছে, জৈব জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে আমেরিকায় আর ইউরোপে, আর এই সবের চাপ এসে পড়ছে বিশ্ববাজারে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ঘরেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এপ্রিলে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে, মার্চে যা ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মার্চের ৮ দশমিক ২৪ থেকে এপ্রিলে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এই সংখ্যাগুলো শুনতে শুকনো লাগলেও যে মানুষটি দিনে দুবার ভাত খাওয়ার জন্য দিনমজুরি করেন, তার কাছে এই প্রতিটি দশমিক বিন্দু একটা আলাদা যন্ত্রণার নাম।

এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার কী করছে? উত্তরটা নিরাশাজনক কারণ এই দলটি ঐতিহাসিকভাবে কখনো সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের কথা ভাবেনি। তাদের ভাবনার কেন্দ্রে থাকে নিজেদের লোকেদের পকেট ভরানো। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে যখন বৈশ্বিক পণ্যবাজারে চাপ ছিল, তখনও সাধারণ মানুষ সরকারের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সুরক্ষা পায়নি। বরং ত্রাণের চাল চুরি হয়েছে, সার কালোবাজারে গেছে, আর সরকারি সুবিধা পৌঁছেছে দলীয় লোকদের কাছে।

বিশ্ববাজারে খাবারের দাম বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও জানাচ্ছে, এপ্রিলে তাদের ফুড প্রাইস ইনডেক্স তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠেছে। সূচকের মান ১৩০ দশমিক ৭ পয়েন্ট, মার্চের চেয়ে বেড়েছে প্রায় পৌনে দুই শতাংশ। ভোজ্যতেল, শস্য, মাংস সব কিছুর দামই ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে যে দেশটি সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে পারে, সেটা হলো বাংলাদেশ। কারণ বাংলাদেশ একটি বড় খাদ্য আমদানিকারী দেশ এবং এই মুহূর্তে দেশটির মাথায় যারা বসে আছে, তারা এই সংকট সামলানোর যোগ্যতা রাখে বলে এতটুকু ভরসা হয় না।

গত ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যে নির্বাচন হলো, সেটাকে নির্বাচন বলতে হলে এই শব্দটার অর্থ নতুন করে শিখতে হবে। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই ভোটে ছিল না। সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। যা হয়েছে সেটা ছিল একটা সাজানো, পরিকল্পিত ক্ষমতা দখলের আনুষ্ঠানিকতা। আর সেই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গদিতে বসেছে বিএনপি এবং তার তথাকথিত মন্ত্রিসভা।

বিএনপি দলটির জন্ম নিয়ে কথা বলতে গেলে শুরু করতে হয় সেনানিবাস থেকে। জিয়াউর রহমান একটি রাজনৈতিক দল বানিয়েছিলেন ব্যারাকের ছায়ায়, সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়। সেই দলের ডিএনএতেই গোড়া থেকে গেঁথে ছিল দুর্নীতি আর পেশিশক্তির রাজনীতি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপির শাসনকাল দেখেছে বাংলাদেশ। সেই পাঁচ বছরে দেশজুড়ে কী হয়েছিল সেটা ভুলে যাওয়ার নয়। চাঁদাবাজি, দখলদারি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, হাওয়া ভবনের ছায়া সরকার, দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক, এই সব কিছু সেই আমলেরই উপহার।

এখন সেই দলটাই আবার ক্ষমতায়। এবং এমন একটা সময়ে ক্ষমতায় যখন আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যের দাম লাফাচ্ছে। ভোজ্যতেলের দাম এপ্রিলে এক মাসেই বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর আর দেখা যায়নি। পাম তেল, সয়াবিন, সূর্যমুখী, সরিষার তেল সবই চড়া। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সংকট কাটেনি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উৎপাদন কমার আশঙ্কা আছে, জৈব জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে আমেরিকায় আর ইউরোপে, আর এই সবের চাপ এসে পড়ছে বিশ্ববাজারে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ঘরেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এপ্রিলে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে, মার্চে যা ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মার্চের ৮ দশমিক ২৪ থেকে এপ্রিলে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এই সংখ্যাগুলো শুনতে শুকনো লাগলেও যে মানুষটি দিনে দুবার ভাত খাওয়ার জন্য দিনমজুরি করেন, তার কাছে এই প্রতিটি দশমিক বিন্দু একটা আলাদা যন্ত্রণার নাম।

এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার কী করছে? উত্তরটা নিরাশাজনক কারণ এই দলটি ঐতিহাসিকভাবে কখনো সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের কথা ভাবেনি। তাদের ভাবনার কেন্দ্রে থাকে নিজেদের লোকেদের পকেট ভরানো। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে যখন বৈশ্বিক পণ্যবাজারে চাপ ছিল, তখনও সাধারণ মানুষ সরকারের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সুরক্ষা পায়নি। বরং ত্রাণের চাল চুরি হয়েছে, সার কালোবাজারে গেছে, আর সরকারি সুবিধা পৌঁছেছে দলীয় লোকদের কাছে।

আরো পড়ুন

LATEST